শেষ পর্যন্ত আত্রেয়ী আর তিস্তার দেখা হয় নি, কথাও না

আত্রেয়ী

এই লেখা আসলে শ্রদ্ধেয় কথাশিল্পী দেবেশ রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন।তাঁর সাথে আমার কোনদিন দেখাও হই নি, কথাও না। তবু আনত শ্রদ্ধা জানাই তাঁকে, নদীকে যিনি বুকে ধারণ করেছিলেন। ছোটবেলা থেকে সম্ভবত ১৯৬৮ সালে তিস্তা নদীর ভয়ংকর বন্যার কথা জেনে আসলেও তার সাথে আমার প্রথম দেখা হয় অনেক পরে।। নব্বই- এর দশকের শেষের দিকে। নদী যে তীব্র অভিঘাত তৈরি করে মনের ভিতর তখন সেটা করেনি। সেটা ছিল শুধু তাকানো। এখন বুঝি সেটা দেখা ছিল না। দেখার দৃষ্টি তো নয়ই। আর তিনি অর্থাৎ দেবেশ রায় তিস্তাকে গভীর ভাবে দেখেছেন না, তিনি শুধু…

তিনি ছিলেন নদীর সন্তান 

সন্তান 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আজ তাঁর জন্মদিন। আজ আরও একবার অনুভব করলাম প্রবল ভাবে যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন আক্ষরিক অর্থেই নদীর সন্তান। তাই লেখার তাগিদ অনুভব করলাম।যদিও এটা খন্ডাংশ বলাই শ্রেয়। নদীর সন্তান না হলে কেউ এভাবে নদীকে তাঁর চিন্তা- চেতনা-ভাবনা- লেখায় জড়িয়ে নিতে পারেন?!  অথচ কি আশ্চর্য! তাঁর জীবনের প্রথম ভাগে নদীর সাথে তার সংযোগ আমরা সেই অর্থে পাইনা। নদী প্রবাহিত হয় সর্পিল গতিতে, আঁকাবাঁকা পথে। আমাদের জীবনের পথও কি তেমন নয়? বিচিত্র সব ইতিহাস যেন লুকিয়ে আছে নদীর সব বাঁকে বাঁকে। একটু যদি দৃষ্টি প্রসারিত করি তাহলে দেখবো যে দুই…

সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় নদী সংকেত দেয় 

সত্যজিৎ

বিশ্ববরেন্য চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় শতবর্ষে পদার্পন করলেন। গতকাল ছিল তাঁর জন্মদিন। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র যে বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমায় নতুন ভাষার আমদানী করেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।পথের পাঁচালী থেকে যে যাত্রাপথের দিকনির্দেশ তিনি করেছেন তা এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। জগত ও বিভিন্ন ধারার সম্পর্কের বিষয়ে কৌতুহল ও নিজস্ব একটা ব্যাখ্যা ছিল তাঁর। সেই ব্যাখ্যান এবং আখ্যান আমরা হয়ে উঠতে দেখি তার সিনেমায়। সত্যজিৎ নদী ভালবাসতেন। তাই তাঁর সিনেমায় নদী নানাবিধ সংকেত দেয়। সময়, সম্পর্ক, পরিস্থিতির একটা দ্যোতনা তৈরি করে।সেসব নিয়েই খন্ডিত ভাবে আলোচনা করবো নিবন্ধে। সত্যজিৎ নদীর…

এই সময়ে যেমন আছে আমার নদী : তুহিন শুভ্র মন্ডল

আমার

এই সময়।এই সময়টাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? বিশেষ সময়?  জরুরী সময়?  ভয়ংকর সময়? মহামারি পেরিয়ে অতিমারির সময়? কিভাবে? সব ভাবেই বলা যেতে পারে।আর একভাবে বলা যেতে পারে যে এটা মানব সভ্যতার বড় সঙ্কটের সময়। কিন্ত প্রকৃতির কাছে? আমার নদীর কাছে? এ বড় সুখের সময়, আনন্দের সময়। এই সময়ে কেমন আছে আমার নদী? আমার মনে হয় ভাল আছে এবং খুব ভাল আছে। এবং যতটুকু অনুভব করেছি এ নদীকে সে এমন ভালই সবসময় থাকতে চায়। করোনা ভাইরাসের ভয়ংকর এই সময়ে মানুষের পদচারণা কম। যান্ত্রিক সভ্যতা আর উন্নয়নের ভুল ব্যাখ্যায় মেতে থাকা মানুষ…

শিলিগুড়ির দুঃখ ফুলেশ্বরী-জোড়াপানি নদী : তুহিন শুভ্র মন্ডল

ফুলেশ্বরী

ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে>> ফুলেশ্বরী নদী প্রবাহিত হয়েছে শিলিগুড়ির মধ্য দিয়ে, যাকে বলে একেবারে বুকের ভেতর দিয়ে। আরেকটি নদী আছে, এর নাম জোড়াপানি। যদি বলা হয় এই দুটি নদী শিলিগুড়ির জীবনরেখা। অত্যুক্তি হয় না বোধহয়। এই লকডাউনের সময়তেও কি অবস্থা নদীগুলির? নালায় পরিণত হয়েছে। ঘন কালো জল। আবর্জনায় পরিপূর্ণ। ফুলেশ্বরী বাজারের কাছে, সূর্যসেন কলোনীতে যদি এই নদীগুলিকে দেখা যায় তাহলে বোঝা যায় এই নদীর বর্তমান অবস্থা কি?  আক্ষরিক অর্থেই নদীটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে।নদীর বুকে গাছের জঙ্গল।ইউট্রোফিকেশন কোথাও কোথাও সাকসেশনও হয়ে গিয়েছে। সংস্কারের অভাবে দীর্ণ এই নদী। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল…

মাঝির তুলনায় জেলেদের করোনা সংক্রমনের ভয় বেশি, কিন্তু কেন?

জেলেদের করোনা

ভারতের দক্ষিণদিনাজপুর থেকে : আচ্ছা বলুন তো যারা জেলে অর্থাৎ মৎস্যজীবী করোনা পরিস্থিতির ফলে তাদের অবস্থা কি? কি আবার? যথা পূর্বং তথা পরং।অর্থাৎ সোজা ভাবে বললে একই। করোনা পরিস্থিতির আগেও যা, পরেও তা। আর মাঝি দের অবস্থা? তাদেরও তো একই। কেন? সেই কথাতেই আসছি। তবে হ্যাঁ, মৎস্যজীবী বা জেলেদের করোনায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা তুলনায় বেশি। সে কথাও বলবো। খুব সহজ ভাবে বলা যেতে পারে গত এক মাস থেকে করোনা ভাইরাসের ভয়াল দিক আমাদের সামনে এসেছে।এই এক মাসে নদীর অবস্থা কি ভাল হয়েছে? উত্তর হচ্ছে না।বর্ষা মরশুম আসতে এখনও অনেক দেরি।এই…

বিশ্ব জল দিবস: নদীর জল ও কিছু কথা- তুহিন শুভ্র মন্ডল

এই সেদিন গেলো বিশ্ব জল দিবস।সমগ্র পৃথিবী জুড়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে, বিভিন্ন দেশের পরিসরে, বেসরকারী উদ্যোগে, পরিবেশপ্রেমী সংস্থার প্রচেষ্টায় এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদযাপিত হয়। এবার অবশ্য তেমন ভাবে হয়নি, কারণ করোনা ভাইরাস। যে কোনো অনুষ্ঠান, জমায়েত এখন জরুরীকালীন ভিত্তিতে বাতিল হচ্ছে। আমাদের পরিবেশসচেতন সংস্থা দিশারী সংকল্পও ২২ মার্চের দিনভর এই জল সম্পর্কিত কার্যসূচি বাতিল করেছে। জলের আরেক নাম জীবন।আক্ষরিক অর্থেই তাই।জল ভাল না থাকলে আমরা ভাল থাকবোনা।কিন্ত যেভাবে জলের প্রতি অবহেলা, উদাসীনতা এখনও প্রবহমান তাতে সুদিন কবে আসবে? জল অপচয়, জলের ভান্ডার ক্রমশ: কমে যাওয়া ইত্যাদি নিয়ে সমগ্র বিশ্বজুড়ে হাহাকার দেখা…

আন্তর্জাতিক নদী কৃত্য দিবসে তুহিন শুভ্র মন্ডল এর কবিতা- আত্রেয়ী, ও আমার আত্রেয়ী

আন্তর্জাতিক নদী কৃত্য দিবস

একটা নদী চেতনায় এসে মেশে সে নদীর বুকে যখন সূর্য ওঠে, সে যে কি অনিবার্য আলো! সে নদীর বুকে যখন সূর্য অস্ত যায়, সে যে কি অপরূপ দৃশ্য! সে আমার আত্রেয়ী, আমার প্রাণের আত্রেয়ী, আমার মনের আত্রেয়ী প্রতি সকালে সে নদীর গায়েই তো হেলান দিয়ে বসে প্রতি বিকালে, প্রতি সন্ধ্যায় ওর কাছে গিয়েই তো মনের কথা বলি সেদিন সকালেও গিয়েছিলাম প্রিয় নদীর কাছে কুয়াশার চাদরে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছিল সে। ওরই মাঝে দেখলাম গুরুদয়ালকে। গুরুদয়াল হালদার গত চল্লিশ বছর ধরে আত্রেয়ীর ওর মা। ওকে লালন করে পালন করে পেটের ভাত দেয়…

ইছামতি বা আত্রেয়ী নয়, সব নদীই আমাদের মনোযোগ দাবি করে

Please Stop River Pollution

Please Stop River Pollution! কিছুদিন আগেই রিভার বাংলাতে ইছামতি নদীর সংস্কার চাই বলে লিখেছিলাম। আর আত্রেয়ীসহ উত্তরবঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন নদী- যখনই যাকে কাছ থেকে দেখেছি বা কাজ করেছি তার উপর সেই নদীর কথা, সঙ্কটের কথা, সমাধানের কথা- লিখেছি রিভার বাংলায়। নিউজটি পড়তে ক্লিক করুণ- জীবন- জীবিকার জন্য ইছামতি নদীর সংস্কার জরুরী  এই যেমন ক’ দিন আগেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরাম পঞ্চায়েত একটি আন্ত: সীমান্ত নদী ইছামতি সংস্কারে উদ্যোগ নিল। বা দক্ষিণ দিনাজপুরের জীবনরেখা আত্রেয়ী নদীতে বসন্ত উৎসবে নদী ও পরিবেশ কর্মীরা নদীদূষণ বন্ধ করার সচেতনতার বার্তা দিলেন তার পরিপ্রেক্ষিতে…

নদীর জন্য একদিন নয়, প্রতিদিন 

শুধু সরস্বতী পুজোর জন্য একদিনের নয়, বা দুর্গাপুজো- কালিপুজো- ছটপুজোর সময় নয়, নদীর দিকে নজর থাকা উচিত প্রতিদিনের।একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার। এবং সেটা পুজোর আগে থেকে। এবং শুধু একটি নদীর একটি ঘাট নয়। সব নদীর, কোন কোন নদীর ঘাট পুজোর জন্য ব্যবহৃত হয়, বিসর্জন দেওয়া হয় সেগুলো ঘিরে একটা বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হবে। এবং সেটি অন্তত দু মাস আগে। কারা কোন নদীর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেবে তার একটা পূর্ণাঙ্গ তালিকা আগে থেকেই থাকা দরকার। সমস্যা শুধু ক্লাব- পুজো কমিটির পুজোর জন্য নয় বাড়ি বাড়ি প্রচুর পুজো হয়। সেগুলোও বিসর্জন দেওয়া…

জলপাইগুড়ির টেমস ‘করলা’ নদীর চিকিৎসা জরুরী

জলপাইগুড়ির

প্রিয় করলা, হ্যাঁ প্রিয়ই বললাম সমস্ত জলপাইগুড়িবাসী আর নদী সন্তানদের পক্ষ থেকে। কেননা কথা বলে বুঝেছি অসংখ্য মানুষ তোমায় ভালবেসে বুকে ধারণ করেছে। তাই তোমার যন্ত্রনায় তারা যন্ত্রনাক্লিষ্ট। তোমার দুর্দশা দেখে কষ্ট হয় তাদের। তাই তাদের হয়ে এই লেখা। জলপাইগুড়ির ‘জীবন রেখা’ করলা। এই নদী কথা ও কথকতার মেলবন্ধন, সৃজনের অবিসংবাদি উপজীব্য। শুধু কি তাই! পরিবহন এবং জলপাইগুড়ির অর্থনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংযুক্ত। অথচ সেই নদী আজ মৃতপ্রায়। ধুঁকছে….. করলার উৎসমুখে যেমন জল স্পর্শহীনা, তেমনই শহরের অংশেও দীর্ণ। বর্ষার সময় ছাড়া জলপাইগুড়িবাসীর এই প্রিয় নদীর কী হাল হয় তা…

নদীর জন্য ভোটার কার্ড চাইছি

ভারতীয় উপমহাদেশে নদীকে বলা হয় মা। আমরা নদীর সন্তান। ছোটবেলা থেকে জেনে আসছি নদীমাতৃক সভ্যতার কথা। এটা তো ঠিকই যে, নদীকে কেন্দ্র করেই সভ্যতা- সংস্কৃতির বিকাশ হয়েছিল। নীল নদ হোক, হোয়াংহো হোক , সিন্ধূ বা গঙ্গা- ভূগোল বইতে তো আমরা কবে থেকেই পড়ছি কেন নদীর পাড়েই, নদীর বুকেই সভ্যতার জন্ম হয়েছিল, শহরের বিকাশ(?) হয়েছিল। অর্থনীতির একটা বড় অংশ নদীর সাথে যুক্ত। সেদিক থেকে দেখলে নদীর কাছে আমাদের অশেষ ঋণ। কিন্ত আমরা কি সেই ঋণ স্বীকার করি? করি না। তাই যদি করতাম তাহলে নদীকে ঘিরেই পরিকল্পনা নিত সরকার। নদীকে ভাল রাখতো…