“নদী মানে আমার কাছে মুক্তি”

সাক্ষাত্কার - তুহিন শুভ্র মন্ডল ও মণিদীপা বিশ্বাস
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নদী নিয়ে আড্ডা বসলো নদীর পাড়ায়। কবি মণিদীপা বিশ্বাস কীর্তনীয়া তা প্রিয় আত্রেয়ীকে মনে করেন নিজেরই দোসর।শুধু আত্রেয়ী কেন?ইছামতিও যে মেয়েবেলা থেকেই তার সঙ্গী। গঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে চিন্তিত তিনি। এমন নদীবন্ধুর সাথে রবিবাসরীয় সকালে নদীমাতৃক আড্ডা দিলেন রিভার বাংলার পক্ষে নদী ও পরিবেশ চিন্তক তুহিন শুভ্র মন্ডল।

তুহিন: রিভার বাংলার পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগত জানাই।নদী মানে আপনার কাছে কি?
মণিদীপা: নদী মানে আমার কাছে মুক্তি। একটা প্রশমন। সবাই একটা প্রশমন খোঁজে।আমার কাছে নদী হলো প্রশমন।

তুহিন: আপনার জন্ম কোথায়? নদীর সাথে আপনার যোগ আছে শুনেছি
মণিদীপা: পশ্চিমবঙ্গে ইছামতি নদীর পাড়ে আমার জন্ম। আমার বাবার বাড়ি খুলনা জেলার মধুমতি গাঙ। আর মায়ের বাড়ি বরিশাল।ফলে বোঝাই যাচ্ছে নদীর সাথে আমার যোগ কতটা গভীর। লেখালেখি যখন করছি তখন আত্রেয়ীর পাড়া  নামে বালুরঘাটের একটি পত্রিকার সঙ্গে সখ্যতা হলো।এমনকি ঐখন একটা বই পড়ছি। প্রীতম বসুর চৌথুপির চর্যাপদ। তাতে করতোয়া, আত্রেয়ী, তিস্তা, তোর্ষার কথা পড়ছি। ফলে সবসময় প্রকৃতি আর নদীকে নিয়েই আছি।

তুহিন: এই মুহুর্তে নদীর জন্য কোন কবিতার উচ্চারণ মনে পড়ছে?
মণিদীপা: আমার দাদা বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী পল্লব কীর্তনিয়ার একটা কবিতার কথা মনে পড়ছে।
আমার দুচোখে ঝরে একা এক নদী
তোমার দুহাতে ঝরে আমলকি বন
ঢেউয়ের জানালা খুলে দেখি ইছামতি
এখানে হলুদ পাতা ঘুমোবে এখন

সাক্ষাত্কার - তুহিন শুভ্র মন্ডল ও মণিদীপা বিশ্বাস
তুহিন শুভ্র মন্ডল ও মণিদীপা বিশ্বাস

তুহিন: আপনি নদীর বুকে গাছ লাগান।জন্মদিন পালন করেন। কেন?
মণিদীপা: আমার কিছু বন্ধু আছে। যাদের সাথে আমি ছন্দ নিয়ে খেলা করি, প্রকৃতির কথা বলি।এই বন্ধুদেরই দুজনের জন্মদিন ছিল।মহালয়ার পূন্য তিথিতে ভাবলাম নদীর পাড়াতেই তো থাকি।নদীর বুকেই জন্মদিনের উদযাপন হোক। সেই ভাবনা থেকেই। আমার এক বন্ধু তার প্রতি জন্মদিনে গাছ লাগায়। আমারও খুব ভাল লেগেছে ভাবনাটা। তাই আমিও গ্রহণ করেছি।

তুহিন: নদীর জন্য কষ্ট হয়? কেন?
মণিদীপা: নদীর জন্য খুবই কষ্ট হয়। যে নদী আমাদের জীবনের সমার্থক তার এখন অবস্থা কি! তাকানো যায়না। শীর্ণকায়া। জল নেই। মাছ নেই। দূষণে, দখলে নদী মৃতপ্রায়। ভীষণ কষ্ট হয়।নদীর জন্য আমাদের কিছু করতেই হবে।

তুহিন: গঙ্গা নদীর জন্য আত্মবোধানন্দজি অনশন করছেন। রাষ্ট্র নির্বিকার।আপনি কি বলবেন?
মণিদীপা: এটা এক ধরনের তঞ্চকতা। এর আগে অধ্যাপক জি ডি আগরওয়াল। এখন আত্মবোধানন্দ। বর্তমান কেন্দ্র সরকারের সময়ে গঙ্গা নদী নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্ত গঙ্গার জন্য সত্যিকারের কিছুই হয়নি।নদীর উপর ড্যাম, ব্যারেজ দেওয়া হচ্ছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে।এককথায় নদীকে মেরে ফেলা হচ্ছে। আপনারা যে একলক্ষ সই সংগ্রহ কর্মসূচি নিয়েছেন তাতে আমি সাথে থাকতে চাই। নদীর জন্য রাস্তায় এর আগেও নেমেছি।আবারও নামতে চাই।

তুহিন: আপনার বাড়ির পাশের আত্রেয়ী যে ভাল নেই সেকথা রিভার বাংলার মাধ্যমে দেশের বাইরের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।নদী নিয়েই আমাদের সমগ্র ভাবনা।রিভার বাংলার জন্য কিছু বলবেন?

মণিদীপা: আমরা নদীমাতৃক। নদী মায়ের আমরা সন্তান। আমার সাম্প্রতিক বই ‘দূরে বাজে’ আত্রেয়ী নদীকে উৎসর্গ করেছি। ফলে নদী কেন্দ্রিক ভাবনা আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে। তাই নদী নিয়ে যখন কেউ ভাবেন তখন আমার খুব ভাল লাগে। খুব জরুরী মনে হয়। রিভার বাংলা যে শুধু নদীকে ঘিরেই এমন ভাবনা ভাবছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। অভিনন্দন জানাই। রিভার বাংলার মাধ্যমে নদী রক্ষার কথা অসংখ্য মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়বে এই প্রার্থনা করি। এগিয়ে চলুক রিভার বাংলা। আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইলো।

সংশ্লিষ্ট বিষয়