মেঘনার পাড় কেটে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন : বন্ধের দাবি এলাকাবাসীর

মেঘনার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ।। হাওরের ভরা বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ দু্ই মাস ধরে মেঘনার পাড় ঘেঁষে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন কিছু সংঘবদ্ধ ব্যবসায়ী। এতে মেঘনা নদীর পাড়ের শত বছরের একটি পুরাতন গোরস্থানসহ প্রায় ১ হাজার একর আবাদি কৃষি জমি নদীতে বিলীন হওয়ার পথে।

জানা যায়, অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন মেঘনা নদী থেকে প্রায় ৫০ হাজার ফুট বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছে। বিষয়টি নিয়ে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের জনগণ প্রতিবাদ জানাতে গিয়েও ব্যর্থ হন। কারণ যারা বালু উত্তোলন করছেন তারা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় ভয়ে অনেকেই কথা বলতে রাজি নয়। তবে তারা এখনই বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, অষ্টগ্রাম উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ নদীর একটি হচ্ছে মেঘনা। মেঘনার একপাশে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার বাংগালপাড়া আর অন্য পাশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের ইমামবাড়ী গোরস্থান সংলগ্ন। যেখানে অবৈধ বালু উত্তোলন ব্যবসায়ীদের কারখানা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। খবর নিয়ে আরও জানা যায়, ড্রেজারের ম্যানেজার মাজহারুল নামের এক ব্যক্তি বালু বিক্রি করে আসছেন।

এলাকা ও জনগণের বৃহৎ স্বার্থে গোয়ালনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অভিযোগকারী কিরণ মিয়া রিভার বাংলাকে জানান, এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী, উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. রাফি উদ্দিন এবং সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন (সংগ্রাম) কে অবগত করেছেন। কিন্তু বার বার বলার পরও বিষয়টি নিয়ে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তিনি আরো জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সরকারিভাবে নিষেধ অমান্য করে এলাকার একটি পুরাতন গোরস্থান ও শত শত একর আবাদি জমির ক্ষতি হওয়ায় জনগণের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় এলাকাবাসীর মাঝে সংঘর্ষ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিষয়টি অষ্টগ্রাম উপজেলা ও নাসিরনগর উপজেলা প্রশাসনের নজরে এনে জনগণের স্বার্থে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও নদী ভাঙন রোধে দ্রুত বন্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে মেঘনা নদীর উভয় পাড়ের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল আলম তৎক্ষণাৎ উপজেলা ভূমি অফিসের নায়েবকে পাঠান এবং ঘটনাটি  সরেজমিন তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দেন।


আরও পড়তে পারেন….
ধলেশ্বরী নদী: ভাঙ্গন রোধে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নদীতে বালুর বস্তা নিক্ষেপ
নরসুন্দায় চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
রিভার বাংলা’র আয়োজনে অনলাইন বিতর্ক উৎসব শুরু
‘নদ-নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ: প্রেক্ষিত গাজীপুর’ বিশেষ ভার্চুয়াল গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

সংশ্লিষ্ট বিষয়