শিলিগুড়ির দুঃখ ফুলেশ্বরী-জোড়াপানি নদী : তুহিন শুভ্র মন্ডল

ফুলেশ্বরী

ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে>> ফুলেশ্বরী নদী প্রবাহিত হয়েছে শিলিগুড়ির মধ্য দিয়ে, যাকে বলে একেবারে বুকের ভেতর দিয়ে। আরেকটি নদী আছে, এর নাম জোড়াপানি। যদি বলা হয় এই দুটি নদী শিলিগুড়ির জীবনরেখা। অত্যুক্তি হয় না বোধহয়। এই লকডাউনের সময়তেও কি অবস্থা নদীগুলির? নালায় পরিণত হয়েছে। ঘন কালো জল। আবর্জনায় পরিপূর্ণ। ফুলেশ্বরী বাজারের কাছে, সূর্যসেন কলোনীতে যদি এই নদীগুলিকে দেখা যায় তাহলে বোঝা যায় এই নদীর বর্তমান অবস্থা কি?  আক্ষরিক অর্থেই নদীটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে।নদীর বুকে গাছের জঙ্গল।ইউট্রোফিকেশন কোথাও কোথাও সাকসেশনও হয়ে গিয়েছে। সংস্কারের অভাবে দীর্ণ এই নদী। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল…

মাঝির তুলনায় জেলেদের করোনা সংক্রমনের ভয় বেশি, কিন্তু কেন?

জেলেদের করোনা

ভারতের দক্ষিণদিনাজপুর থেকে : আচ্ছা বলুন তো যারা জেলে অর্থাৎ মৎস্যজীবী করোনা পরিস্থিতির ফলে তাদের অবস্থা কি? কি আবার? যথা পূর্বং তথা পরং।অর্থাৎ সোজা ভাবে বললে একই। করোনা পরিস্থিতির আগেও যা, পরেও তা। আর মাঝি দের অবস্থা? তাদেরও তো একই। কেন? সেই কথাতেই আসছি। তবে হ্যাঁ, মৎস্যজীবী বা জেলেদের করোনায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা তুলনায় বেশি। সে কথাও বলবো। খুব সহজ ভাবে বলা যেতে পারে গত এক মাস থেকে করোনা ভাইরাসের ভয়াল দিক আমাদের সামনে এসেছে।এই এক মাসে নদীর অবস্থা কি ভাল হয়েছে? উত্তর হচ্ছে না।বর্ষা মরশুম আসতে এখনও অনেক দেরি।এই…

বিশ্ব জল দিবস: নদীর জল ও কিছু কথা- তুহিন শুভ্র মন্ডল

এই সেদিন গেলো বিশ্ব জল দিবস।সমগ্র পৃথিবী জুড়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে, বিভিন্ন দেশের পরিসরে, বেসরকারী উদ্যোগে, পরিবেশপ্রেমী সংস্থার প্রচেষ্টায় এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদযাপিত হয়। এবার অবশ্য তেমন ভাবে হয়নি, কারণ করোনা ভাইরাস। যে কোনো অনুষ্ঠান, জমায়েত এখন জরুরীকালীন ভিত্তিতে বাতিল হচ্ছে। আমাদের পরিবেশসচেতন সংস্থা দিশারী সংকল্পও ২২ মার্চের দিনভর এই জল সম্পর্কিত কার্যসূচি বাতিল করেছে। জলের আরেক নাম জীবন।আক্ষরিক অর্থেই তাই।জল ভাল না থাকলে আমরা ভাল থাকবোনা।কিন্ত যেভাবে জলের প্রতি অবহেলা, উদাসীনতা এখনও প্রবহমান তাতে সুদিন কবে আসবে? জল অপচয়, জলের ভান্ডার ক্রমশ: কমে যাওয়া ইত্যাদি নিয়ে সমগ্র বিশ্বজুড়ে হাহাকার দেখা…

আন্তর্জাতিক নদী কৃত্য দিবসে তুহিন শুভ্র মন্ডল এর কবিতা- আত্রেয়ী, ও আমার আত্রেয়ী

আন্তর্জাতিক নদী কৃত্য দিবস

একটা নদী চেতনায় এসে মেশে সে নদীর বুকে যখন সূর্য ওঠে, সে যে কি অনিবার্য আলো! সে নদীর বুকে যখন সূর্য অস্ত যায়, সে যে কি অপরূপ দৃশ্য! সে আমার আত্রেয়ী, আমার প্রাণের আত্রেয়ী, আমার মনের আত্রেয়ী প্রতি সকালে সে নদীর গায়েই তো হেলান দিয়ে বসে প্রতি বিকালে, প্রতি সন্ধ্যায় ওর কাছে গিয়েই তো মনের কথা বলি সেদিন সকালেও গিয়েছিলাম প্রিয় নদীর কাছে কুয়াশার চাদরে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছিল সে। ওরই মাঝে দেখলাম গুরুদয়ালকে। গুরুদয়াল হালদার গত চল্লিশ বছর ধরে আত্রেয়ীর ওর মা। ওকে লালন করে পালন করে পেটের ভাত দেয়…

ইছামতি বা আত্রেয়ী নয়, সব নদীই আমাদের মনোযোগ দাবি করে

Please Stop River Pollution

Please Stop River Pollution! কিছুদিন আগেই রিভার বাংলাতে ইছামতি নদীর সংস্কার চাই বলে লিখেছিলাম। আর আত্রেয়ীসহ উত্তরবঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন নদী- যখনই যাকে কাছ থেকে দেখেছি বা কাজ করেছি তার উপর সেই নদীর কথা, সঙ্কটের কথা, সমাধানের কথা- লিখেছি রিভার বাংলায়। নিউজটি পড়তে ক্লিক করুণ- জীবন- জীবিকার জন্য ইছামতি নদীর সংস্কার জরুরী  এই যেমন ক’ দিন আগেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরাম পঞ্চায়েত একটি আন্ত: সীমান্ত নদী ইছামতি সংস্কারে উদ্যোগ নিল। বা দক্ষিণ দিনাজপুরের জীবনরেখা আত্রেয়ী নদীতে বসন্ত উৎসবে নদী ও পরিবেশ কর্মীরা নদীদূষণ বন্ধ করার সচেতনতার বার্তা দিলেন তার পরিপ্রেক্ষিতে…

নদীর জন্য একদিন নয়, প্রতিদিন 

শুধু সরস্বতী পুজোর জন্য একদিনের নয়, বা দুর্গাপুজো- কালিপুজো- ছটপুজোর সময় নয়, নদীর দিকে নজর থাকা উচিত প্রতিদিনের।একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার। এবং সেটা পুজোর আগে থেকে। এবং শুধু একটি নদীর একটি ঘাট নয়। সব নদীর, কোন কোন নদীর ঘাট পুজোর জন্য ব্যবহৃত হয়, বিসর্জন দেওয়া হয় সেগুলো ঘিরে একটা বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হবে। এবং সেটি অন্তত দু মাস আগে। কারা কোন নদীর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেবে তার একটা পূর্ণাঙ্গ তালিকা আগে থেকেই থাকা দরকার। সমস্যা শুধু ক্লাব- পুজো কমিটির পুজোর জন্য নয় বাড়ি বাড়ি প্রচুর পুজো হয়। সেগুলোও বিসর্জন দেওয়া…

জলপাইগুড়ির টেমস ‘করলা’ নদীর চিকিৎসা জরুরী

জলপাইগুড়ির

প্রিয় করলা, হ্যাঁ প্রিয়ই বললাম সমস্ত জলপাইগুড়িবাসী আর নদী সন্তানদের পক্ষ থেকে। কেননা কথা বলে বুঝেছি অসংখ্য মানুষ তোমায় ভালবেসে বুকে ধারণ করেছে। তাই তোমার যন্ত্রনায় তারা যন্ত্রনাক্লিষ্ট। তোমার দুর্দশা দেখে কষ্ট হয় তাদের। তাই তাদের হয়ে এই লেখা। জলপাইগুড়ির ‘জীবন রেখা’ করলা। এই নদী কথা ও কথকতার মেলবন্ধন, সৃজনের অবিসংবাদি উপজীব্য। শুধু কি তাই! পরিবহন এবং জলপাইগুড়ির অর্থনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংযুক্ত। অথচ সেই নদী আজ মৃতপ্রায়। ধুঁকছে….. করলার উৎসমুখে যেমন জল স্পর্শহীনা, তেমনই শহরের অংশেও দীর্ণ। বর্ষার সময় ছাড়া জলপাইগুড়িবাসীর এই প্রিয় নদীর কী হাল হয় তা…

নদীর জন্য ভোটার কার্ড চাইছি

ভারতীয় উপমহাদেশে নদীকে বলা হয় মা। আমরা নদীর সন্তান। ছোটবেলা থেকে জেনে আসছি নদীমাতৃক সভ্যতার কথা। এটা তো ঠিকই যে, নদীকে কেন্দ্র করেই সভ্যতা- সংস্কৃতির বিকাশ হয়েছিল। নীল নদ হোক, হোয়াংহো হোক , সিন্ধূ বা গঙ্গা- ভূগোল বইতে তো আমরা কবে থেকেই পড়ছি কেন নদীর পাড়েই, নদীর বুকেই সভ্যতার জন্ম হয়েছিল, শহরের বিকাশ(?) হয়েছিল। অর্থনীতির একটা বড় অংশ নদীর সাথে যুক্ত। সেদিক থেকে দেখলে নদীর কাছে আমাদের অশেষ ঋণ। কিন্ত আমরা কি সেই ঋণ স্বীকার করি? করি না। তাই যদি করতাম তাহলে নদীকে ঘিরেই পরিকল্পনা নিত সরকার। নদীকে ভাল রাখতো…

নদীর দিকে আমাদের দৃষ্টি ফেরানো দরকার দ্রুত 

নদীর

যে নদী জীবন দিল, জীবিকা দিল, দিল পরিচয়- তার দিকে দৃষ্টি ফেরানো আমাদের সর্বাগ্রে দরকার। কেন একথা বলছি? তাহলে কি নদীর দিকে আমাদের দৃষ্টি নেই? সোজাসাপটা বলা ভাল- না নেই। নদীর দিকে আমাদের দৃষ্টি নেই। তাই যদি হতো তাহলে নদীরজন্য অনশন করতে হতো না, নদীর জন্য মানুষকে রাস্তায় নামতে হতো না, নদীরজন্য কনভেনশনের দরকার পড়তো না।নদীর জন্য মৌন মিছিলের প্রয়োজন ছিল না। রাজ্য, দেশ এমনকি দেশের বাইরেও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বজায় রাখার জন্য আন্দোলন করতে হতো না। অথচ আমাদের সভ্যতা নদীমাতৃক। নদী নির্ভর জীবন ছিল। নদীকে নির্ভর করেই পরিবার প্রতিপালিত…

পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেবো রিভার বাংলার নাম 

পৃথিবীতে

রিভার বাংলা – নামটার সাথে প্রথম পরিচয় করিয়েছিলেন গল্পদেশ পত্রিকার সম্পাদক গৌতম অধিকারী। তিনি একবার বালুরঘাটে এসেছিলেন। আমাদের এখানকার বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা মহকুমা আধিকারিক সঞ্জয় মৌলিক খবরটা দিয়েছিলেন যে, গৌতম দা এসেছেন। তারপর আমরা সকাল বেলায় আত্রেয়ী নদীর ধারে একটা সভা করেছিলাম। বছর দুয়েক থেকে চেষ্টা করি যে, যে কোন সভা যতটা প্রকৃতির কাছে করতে পারি। সেই হিসাবে আমাদের ‘নদীর কাছে এসো’তে সেদিন উপস্থিত ছিলেন গল্পদেশ পত্রিকার সম্পাদক গৌতম অধিকারীসহ বিশিষ্ট জনেরা। সেখানেই গল্পদেশ পত্রিকার সম্পাদক গৌতম অধিকারী (উনি রিভার বাংলার ভারতবর্ষের সম্পাদকও) বলেছিলেন নদী বিষয়ক অনলাইন পত্রিকা ‘রিভার বাংলা’ এবং…

জীবন- জীবিকার জন্য ইছামতি নদীর সংস্কার জরুরী 

জীবন

পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ মিলে ইছামতির সংখ্যা চারের অধিক। সেই সব ইছামতি নিয়ে বিস্তারিত আখ্যান একদিন শোনাবো।আপাতত বলছি, দক্ষিণ দিনাজপুরের ইছামতি নিয়ে। পতিরাম, গোবিন্দপুর, পিরোজপুর, অমৃতপুর, মোমিনপুরসহ কুমারগঞ্জের ব্লকের বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকার জন্য চাইছি আন্ত: সীমান্ত নদী ইছামতির সংস্কার। ইতিমধ্যেই ইছামতি নদীর সংস্কারের বিষয়ে দেখা করেছি কুমারগঞ্জ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক দেবদত্ত চক্রবর্তীর সাথে। যোগাযোগ করছি জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও। ইছামতি নদী সংস্কারের দাবীতে স্থানীয় নদী- পরিবেশ কর্মী জুলিয়াস হাসান চৌধুরী বলেন ইছামতিকে ঘিরে প্রচুর মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতো।মৎস্যজীবী ও কৃষিজীবীরা নির্ভর করতো এই নদীর উপর।এই নদীর সংস্কার চাই। নদী পাড়ের বাসিন্দা কৃষক…

নদী-দখল : আমরা কি মুক্ত করতে পারবো? 

হ্যাঁ, এই বিষয়টা নিয়ে লিখতে বাধ্য হলাম। এমনটা নয় যে নদী দখল এখনই হচ্ছে, আগেও হয়েছে। এমন চলতে থাকলে পরেও চলবে। সম্প্রতি মালদার মহানন্দা নদী নিয়ে দখলের বিষয়টি সামনে এসেছে। তাই এই সময়েই নদী দখলের বিষয়টি আরও জোরালো ভাবে বলা দরকার। মহানন্দা নদী ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশের একটি আন্ত:সীমান্ত নদী। ভারতবর্ষের উত্তরবঙ্গে এই নদীর গুরুত্ব সীমাহীন। শিলিগুড়ি অংশের মহানন্দা নদীতে দূষণের সাথে সাথে দখলের সমস্যাও বহু পুরোন। নদী খাতে খাটাল, ঘর- বাড়ি নদীর জায়গা নেয়নি কে? উত্তর দিনাজপুরের শ্রীমতি নদী- দখল নিয়েছে মানুষের কৃষিজমি। দক্ষিণ দিনাজপুরের ব্রাহ্মণী- বেশ কিছু জায়গায় নদী…