অদ্বৈত মল্লবর্মণ: তিতাস একটি নদীর নাম

তিতাস

।। পলাশ মজুমদার ।। ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের ভূমিকায় অদ্বৈত লিখেছেন, ‘তিতাস একটি নদীর নাম। তার কূলজোড়া জল, বুকভরা ঢেউ, প্রাণভরা উচ্ছ্বাস। স্বপ্নের ছন্দে সে বহিয়া যায়। ভোরের হাওয়ায় তার তন্দ্রা ভাঙ্গে, দিনের সূর্য তাকে তাতায়, রাতে চাঁদ ও তারারা তাকে নিয়ে ঘুম পাড়াইতে বসে, কিন্তু পারে না।’ এক. বাংলা সাহিত্য কেবলমাত্র একটি উপন্যাসের জন্য একজন লেখকের কাছে ঋণী থাকবে। উপন্যাসটির নাম—‘তিতাস একটি নদীর নাম’, আর তার অমর স্রষ্টা কল্লোলযুগের নিভৃতচারী এক অসাধারণ প্রতিভাধর লেখক অদ্বৈত মল্লবর্মণ (১৯১৪-১৯৫১)। জন্মেছিলেন বৃটিশ ভারতের অখণ্ড বাংলা প্রদেশের তৎকালীন কুমিল্লা জেলাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার…

“দুই বাংলার নদীকথা”- নদীমাতৃক বাংলার বিশ্বকোষ

দুই বাংলার নদীকথা

।। জ্যোতিরিন্দ্রনারায়ণ লাহিড়ী ।।  “ দেওয়াল ঘড়ির পেন্ডুলামের মত নদী একটা নির্দিষ্ট ব্যপ্তির মধ্যে ক্রমাগত সঞ্চরণশীল থাকে। যে ব্যপ্তির মধ্যে নদী সতত গতিশীল থাকে তাকে বলে নদীর ‘মিয়েন্ডার বেল্ট’। নদীর ‘মিয়েন্ডার বেল্ট’কে তার খেলাঘর বলা যায়। যেখানে সে সক্রিয় থাকে। এই এলাকা কৃষি কাজে ব্যবহার করা গেলেও রেলপথ বা সড়কপথ নির্মাণের যোগ্য নয়। মানুষ না বুঝে নদীর খেলাঘরে ঢুকে পড়লেই বিপদ আসতে বাধ্য।”- সদ্য প্রকাশিত “দুই বাংলার নদীকথা” নামে বইতে বাংলার নদী নিয়ে তাঁর চার দশক ব্যাপী নিরলস গবেষণা ও চর্চার নির্যাসকে তুলে এনেছেন নদী বিজ্ঞানী কল্যাণ রুদ্র। নদী আমাদের…

‘মহানদী’, এক সাধারণ পাঠকের অনুভব

মহানদী

।। সুস্মিতা চক্রবর্তী ।।  মহানদী। ছত্রিশগড়ের মালভূমি থেকে নেমে এসে জগৎসিংহপুরের বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত যেতে যেতে ভারতবর্ষের মাটির সাথে বেঁধে নেয় তার ভাঙা গড়ার খেলা, যেমন নেয় সব নদীই তার নিজভূমের সাথে। নদীর নিজভূমটি ঠিক কে? সে কি মানচিত্রে দাগ টেনে দেওয়া আঁকাবাঁকা এক ভৌগোলিক জরিপের সীমানা? নাকি বয়ে যাওয়া এক গতিময় অতল? যে অতল উৎস থেকে পাড়ি দেয় মোহনা আর একইসাথে নিজেও হয়ে ওঠে অজস্র আখ্যান, লোককথা, লোকাচার, ইতিহাস, পুরাণের, বৃক্ষলতাগুল্ম, কীটপতঙ্গ, অরণ্যজীবন আর মানুষের এক মহা সংগম, এক মহা মিলনস্থল। নদীর এই দ্বিতীয় রূপটিই অনিতা অগ্নিহোত্রীর, ‘মহানদী’ উপন্যাসের উপজীব্য।এই…