নদী বিষয়ক কবিতা “আত্মীয়”- ফারুক মাহমুদ

কবিতা: আত্মীয় ১. আমি ঠিক এসে যাবো। নদী, তুমি কিন্তু অপেক্ষা করো না জানই তো সময়ের স্বেচ্ছাচার আঁট করে আছে রাত্রিগুলো ঢুকে যাচ্ছে অঘুমের দীর্ঘ কোলাহলে দিনের ব্যস্ততা থেকে ঝরে পড়ে মূল্যশূন্য ধূলো এর মধ্যে জারি হয় রোদনের খিন্ন প্রজ্ঞাপন কিছু কান্না জমে গেছে। নদী, বলো, কার কাছে কাঁদি আমার চোখের জল তুমি ছাড়া আর কেউ বোঝ!? ২. জলের নিঃশ্বাস থেকে পাওয়া যায় ছন্দশুদ্ধ গান স্বভাবে বাউল বটে, যেতে যেতে বহুদূর যায় কান্নার বিচিত্র শ্রেণি। নৈশব্দ ও শব্দপ্রকরণে অক্লান্ত জাগিয়ে রাখে বিষাদের নানারং আলো নদীকে আত্মীয় মানি। ওর ভাষা সর্বজনভাষা…

এক নদী গল্প- মুহাম্মাদ মিজানুর রশীদ শুভ্র

এক নদী গল্প- মুহাম্মাদ মিজানুর রশীদ শুভ্র

কবিতা: এক নদী গল্প না, আমি পুর্ব পরিকল্পিত প্রেম করিনি সে নদী ছিল কান্নার মতো স্বতস্ফূর্ত পার ভাঙা ছিল তার উচ্ছ্বাস না, কোন পরিকল্পনা করে নদী পাড় ভাঙেনি নদী গুলো খুব আহ্লাদ করে সবুজ গ্রামের গা ঘেষে থাকে তবুও তোমরা নদীতে বাঁধ দাও তোমরা পরিকল্পনা করে বাঁধ দাও আমি, আগে থেকেই সব ঠিক করে রাখিনি তোমাদের মনে বিশ্বাস ছিল না হয় তো শুধু মাটি জানে, যে মাটির কসম খেয়ে নদী চলে কতো শত বর্ষাকাল শুষে নি মাটি নদী কে শুষে না সে, অথচ তোমরা বাঁধ দিলে পরিকল্পনা করে যে বাঁধ…

নদীখেকোদের প্রতি- আমিনুল ইসলাম সেলিম 

সেলিম 

নদীকে হত্যা করে কীভাবে তোমরা হও সভ্যতার পতাকাবাহক? কর্পোরেট হাসি নিয়ে যত্রতত্র কী করে দাঁড়াও মাথা তুলে? নিলাজ এতোটা নাকি? এতোটাই? মাটিচাপা দিচ্ছো যারা নদীবুকে, করে যাচ্ছো প্রাণ ওষ্ঠাগত তোমাদের নামেও ফুটছে ফুল, ঝুলছে তিলকশোভা নানান রকম এর নাম সভ্যতা? আচানক! কী যে আচানক! নদীকে হত্যা করে, রসহীন করে দিচ্ছো দেশ নদীকে বন্দি করে, অপরাধী করে দিচ্ছো মনুষ্যবিবেক নদীকে রক্তাক্ত করে, প্রাণহীন করে দিচ্ছো প্রিয় প্রকৃতিকে তোমরা কি ভুলে গেছো মেসোপোটেমিয় দিন, নদীর সভ্যতা? ভুলেছো কি সিন্ধু নদের পাড়ে জীবনের প্রাচীন ফসিল? ভুলেছো কি তেরো ‘শ নদীর দেশ? যে দেশের…

কালীগঙ্গা ডেকেছিল ।। সন্তোষ কুমার শীল

কালীগঙ্গা

দেখতে দেখতে কালীগঙ্গার বুকের মধু উথলে ওঠে। ক’দিন যাবত থেকে থেকে দমকা বাতাস বইছিল। সকাল থেকে বৃষ্টির সাথে মিলে তা ঝোড়ো হাওয়া হয়ে বইতে শুরু করে। আর আশ্বিনের জড়সড় কালিগঙ্গা হঠাৎ ফুলে ফেঁপে ওঠে। সাগর থেকে বয়ে আনা বিপুল জলরাশি দু’কুল ছাপিয়ে নাচতে নাচতে জনপদের দিকে ছুটতে থাকে। হারাধন সারাদিন তার ঝুপড়িতে বসে ক্ষণে ক্ষণে কালীগঙ্গার রূপ পরিবর্তন দেখেছে আর নানা স্মৃতির জাবর কেটেছে। দিনটা তার ভাগ্যবিড়ম্বিত জীবনের মত একটা দুর্দিন। তখনো সাঁঝের আঁধার নামেনি। শেষ বেলায় এক পশ্লা বৃষ্টি হয়ে আকাশ কিছুক্ষণের জন্য পরিস্কার হয়ে উঠেছিল। একখানা ইঞ্জিনচালিত ছোট্ট…

মেঘভাঙা বৃষ্টি ।। ইন্দ্রনীল সুমন

ইন্দ্রনীল সুমন এর একটি নদী বিষয়ক গল্প  “মেঘভাঙা বৃষ্টি” পড়ুন রিভার বাংলা ডট কমে এক.  ডুলুং এখানে হলুদ বিনুনি কিশোরীর মতো, লাফিয়ে লাফিয়ে চলে, অকারণে উচ্ছল! এদিকটায় বোল্ডার বেশী, তাই ডুলুং এর জলের শব্দও বেশী| ডুলুং কথা বলে| নদীভাষায়| ইমন মজা পায়| বোঝার চেষ্টা করে নদীর ভাষা| যেন সাংকেতিক কোনো ভাষায় নদী কিছু বলতে চাইছে ইমনকে, আর ইমন মন দিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করছে তার অর্থ| প্রথম যেবার এসেছিল তখন ডুলুং এর কথা একেবারেই বুঝত না, আজকাল অল্প হলেও বোঝে| এই যেমন ডুলুং এখন বেলা বারোটার রোদমেখে খুশী খুশী মুখে ডাকছে…

লাবণ্যবতী একটি স্রোতের নাম ।। সুস্মিতা চক্রবর্তী

লাবণ্যবতী

গল্প সকাল… দু পায়ের ফাঁক দিয়ে মুন্ডুটা উলটো করে ঢুকিয়ে মাঝেমাঝে আমি আকাশ দেখি। একঘেয়ে লাগলে আর কাজ না থাকলে। খালের উপর কংক্রিটের ব্রীজের ফোকর দিয়েও দেখি। আর দেখি মাঝেমাঝে রাত্তিরে ঘুম ভেঙে গেলে আমাদের ঘরের টালির ফুকো দিয়ে। এইসব উলটো, গোলাটে, তেরচা আকাশগুলোর কথা অবশ্য কাউকে বলি না। আর বলবই বা কাকে। একবার লিটনকে বলতে গিয়েছিলাম। আমায় একটা ঠেলা দিয়ে বললে ‘ স্লা বাপের জম্মে শুনিনি। কোদ্দিয়ে এসব পাস গুরু।’ লিটনটা ওইরকম। আমার চেয়েও দু বছরের ছোট। দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না যে এরম সব কথার ফুলঝুরি মুখে। তা…

হামিদ কায়সার এর গল্প- ডুব

ডুব

‘কী রে জয়নাল, হইল?’ জয়নাল বলে, ‘হয় নাই।’ আটটা থেকে নয়টার এই সময়ে লোকে লোকে নাও ভইরা গেলেও হয় না জয়নালের, আয়নালেরও হয় না। লোক আরও চাই। আরও আরও লোক। লোকের ভেতরে লোক। লোকের উপরে লোক। যতভাবে ঠাসা যায়। লোকেরও যেন এসবে বিকার নাই। নয়টা সাড়ে নয়টার মধ্যে পৌঁছাতেই হবে টাউনে। কেউ খুলবে দোকান, কেউ করবে অফিস। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের পোলাপানও কিছু আসে। আর থাকে কিছু আলগা মানুষ। যাদের কোনো কাম-কাজ নাই। খাইব ফিরব ঘুরব। এ অফিসে সে বাসায় ঢুঁ মারব। তবে, এ সময়ে যারা আসে তাদের কারোরই হুঁশজ্ঞান থাকে…

মহাদেব ও ইছামতীর গল্প ।। সুজয় চক্রবর্তী

মহাদেব

বছরকয়েক ধরে শীতের এই মরশুমে অহরহ এ দৃশ্য চোখে পড়ছে। নদীর ধারে পিকনিক। ইছামতীর এই জায়গাটা এখন মফস্বলের পিকনিক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গাড়ি করে হুস হুস করে লোক আসছে দল বেঁধে। তারপর সারাদিন নাচা-গানা, খানাপিনা করে আবার সব হুস হুস করে বেরিয়ে যাচ্ছে। আজও বক্স বাজিয়ে একদল লোক পিকনিক করছে। জনাদশেকের দলটা এসেছে সকাল সকাল। এখন আড়াইটে বাজতে চললো। বড় ডেস্কিতে মাংস রান্না হচ্ছে। গন্ধ ছাড়ছে ভুর ভুর করে। পাশে বড় ঝুড়িতে ভাতের ফ্যান ঝরছে। খানিক তফাতেই ঘুর ঘুর করছে দু-একটা কুকুর। নদীর ধারে যেদিন পিকনিকপার্টিরা আসে, সেদিন মহাদেবের খুব…

গাফফার মাহমুদের কবিতা- “নদীর খবর”

নদীর খবর গাফফার মাহমুদ প্রতিদিন ছুটে যাই নদীর কাছে সরল সখ্যতায় নদী শেখায় ভাঙাগড়া গড়তে জানি ভাঙতে জানি নদীর মতো। জলের স্রোত বইতে থাকে বুকের ভেতর আমার খবর জানলো কবে অথই নদী কোথায় গিয়ে মিলবে নদী জলের স্রোতে! ঘরহারা ওই দু’কূল পাড়ের নদীর মানুষ টগর জলে ভাসতে জানে ভাসাতে জানে কূলহারাদের খবর জানে না কেউ নদী ছাড়া! আরও পড়ুন… বরাকর একটি নদীর নাম ।। অতনু রায় গাঙ নিহন্তা ।। কপোতাক্ষী নূপুরমা সিঞ্চি ধলেশ্বরী নদী: ভাঙ্গন রোধে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নদীতে বালুর বস্তা নিক্ষেপ রিভার বাংলা ডটকম

গাঙ নিহন্তা ।। কপোতাক্ষী নূপুরমা সিঞ্চি

কপোতাক্ষী

কবিতা গাঙ নিহন্তা ।। কপোতাক্ষী নূপুরমা সিঞ্চি সঙ্গীর টানে গাঙচিল হইলো দেশান্তরি দিন গেলো তার মন অসুখে নদী মারে ছাড়ি যার পেটের মাছ ভক্ষণে গেলো কৈশোরকাল তার জলের স্মৃতি নাচে স্বপ্নে হাহাকার। ধবল ডানা মেইল্যা ধরে যাবে মায়ের কোল জলে স্নানে অস্ত যাবে দুঃখ নদীর অতল আৎকা ডরে ঝটকা লাগে ডানার গতি শ্লথ জল শুকায়্যা ঘুইরা বেড়ায় অজগরের রথ। গাঙ মইরা নিদাঘে জাগে মাতৃছাতি ফাটা চর পক্ষীর চোখে নদীর আঁকার বিশাল অজগর জলের গলায় ফাঁস লাগাইলো বাহারি পলিথিন এই কারবার মানুষের না ‘এক যে ছিলো জ্বীন।’ স্মৃতির গাঙে জলকেলি হিরক…

রাজেশ ধর এর গল্প “শেকল”

শেকল

“এত দেরি করি আসলি, চলে কী করি? একগাদা লোক দাঁড়ায়ে রয়েছে ঘণ্টা ধরি!” “কী করব? খেয়া তো দরকারের জন্যি। কত্ত সমিস্যের লোক আসতি নাগে। সবারে না নি এলি হয়। সক্কলের জন্যি দাঁড়ায়ে থাকতি হয়।” “হ, লগেন মাঝি,.তোমার মাথাডা এক্কেবারে গিইছে। কেডা কখন আসপে তার জন্যি তুমি ঐ পারে দাঁড়ায়ে থাকপা আর এই পারের লোকেরা রোদের তাপে বেগুন পোড়া হবে? তোমারে নে তো আর পারা যায় না!” “তা কী করবা কর! করি নাও… দুডো পারই তো এই ফুডিডার নাকি? ফুডিনদীর একপারের লোকের সুক দেখতে গি, অন্য পারের লোকে কষ্ট পাবে, তা…

বাংলা ছোটগল্পে নদী : মানব জীবনের কথকতা ।। রাজু বিশ্বাস

নদীমাতৃক এই বাংলা। বাংলাদেশ  ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে যে বৃহৎ বাংলা– তাকে মায়ের মত আদর স্নেহ ভালবাসা আর শাসন দিয়ে ঘিরে রেখেছে অসংখ্য নদ-নদী। নদীর তীরেই মানুষ সভ্যতার প্রথম সোপান রচনা করে। আমাদের বাণিজ্য যাত্রার ইতিহাস নদীকে কেন্দ্র করেই প্রসারিত হয়েছে। বাংলা মঙ্গলকাব্যের বিস্তৃত পটভূমিকায় নদীর একটা আলাদা তাৎপর্য আছে। সেই চর্যাপদের সময় থেকেই সাহিত্যে নদনদীর কথা এসেছে গভীরভাবে। মনসা মঙ্গলের বেহুলা এই বাংলার নদী পথেই ভেলায় মৃত লখিন্দরের শবদেহ নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল অমরাবতির দরজায়। আধুনিক বাংলা ছোটগল্পে নদী একটা বিস্তৃত জায়গা জুড়ে রয়েছে। সাহিত্য কখনো দেশ কাল নিরপেক্ষ হতে…