গাফফার মাহমুদের কবিতা- “নদীর খবর”

নদীর খবর গাফফার মাহমুদ প্রতিদিন ছুটে যাই নদীর কাছে সরল সখ্যতায় নদী শেখায় ভাঙাগড়া গড়তে জানি ভাঙতে জানি নদীর মতো। জলের স্রোত বইতে থাকে বুকের ভেতর আমার খবর জানলো কবে অথই নদী কোথায় গিয়ে মিলবে নদী জলের স্রোতে! ঘরহারা ওই দু’কূল পাড়ের নদীর মানুষ টগর জলে ভাসতে জানে ভাসাতে জানে কূলহারাদের খবর জানে না কেউ নদী ছাড়া! আরও পড়ুন… বরাকর একটি নদীর নাম ।। অতনু রায় গাঙ নিহন্তা ।। কপোতাক্ষী নূপুরমা সিঞ্চি ধলেশ্বরী নদী: ভাঙ্গন রোধে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নদীতে বালুর বস্তা নিক্ষেপ রিভার বাংলা ডটকম

গাঙ নিহন্তা ।। কপোতাক্ষী নূপুরমা সিঞ্চি

কপোতাক্ষী

কবিতা গাঙ নিহন্তা ।। কপোতাক্ষী নূপুরমা সিঞ্চি সঙ্গীর টানে গাঙচিল হইলো দেশান্তরি দিন গেলো তার মন অসুখে নদী মারে ছাড়ি যার পেটের মাছ ভক্ষণে গেলো কৈশোরকাল তার জলের স্মৃতি নাচে স্বপ্নে হাহাকার। ধবল ডানা মেইল্যা ধরে যাবে মায়ের কোল জলে স্নানে অস্ত যাবে দুঃখ নদীর অতল আৎকা ডরে ঝটকা লাগে ডানার গতি শ্লথ জল শুকায়্যা ঘুইরা বেড়ায় অজগরের রথ। গাঙ মইরা নিদাঘে জাগে মাতৃছাতি ফাটা চর পক্ষীর চোখে নদীর আঁকার বিশাল অজগর জলের গলায় ফাঁস লাগাইলো বাহারি পলিথিন এই কারবার মানুষের না ‘এক যে ছিলো জ্বীন।’ স্মৃতির গাঙে জলকেলি হিরক…

রাজেশ ধর এর গল্প “শেকল”

শেকল

“এত দেরি করি আসলি, চলে কী করি? একগাদা লোক দাঁড়ায়ে রয়েছে ঘণ্টা ধরি!” “কী করব? খেয়া তো দরকারের জন্যি। কত্ত সমিস্যের লোক আসতি নাগে। সবারে না নি এলি হয়। সক্কলের জন্যি দাঁড়ায়ে থাকতি হয়।” “হ, লগেন মাঝি,.তোমার মাথাডা এক্কেবারে গিইছে। কেডা কখন আসপে তার জন্যি তুমি ঐ পারে দাঁড়ায়ে থাকপা আর এই পারের লোকেরা রোদের তাপে বেগুন পোড়া হবে? তোমারে নে তো আর পারা যায় না!” “তা কী করবা কর! করি নাও… দুডো পারই তো এই ফুডিডার নাকি? ফুডিনদীর একপারের লোকের সুক দেখতে গি, অন্য পারের লোকে কষ্ট পাবে, তা…

বাংলা ছোটগল্পে নদী : মানব জীবনের কথকতা ।। রাজু বিশ্বাস

নদীমাতৃক এই বাংলা। বাংলাদেশ  ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে যে বৃহৎ বাংলা– তাকে মায়ের মত আদর স্নেহ ভালবাসা আর শাসন দিয়ে ঘিরে রেখেছে অসংখ্য নদ-নদী। নদীর তীরেই মানুষ সভ্যতার প্রথম সোপান রচনা করে। আমাদের বাণিজ্য যাত্রার ইতিহাস নদীকে কেন্দ্র করেই প্রসারিত হয়েছে। বাংলা মঙ্গলকাব্যের বিস্তৃত পটভূমিকায় নদীর একটা আলাদা তাৎপর্য আছে। সেই চর্যাপদের সময় থেকেই সাহিত্যে নদনদীর কথা এসেছে গভীরভাবে। মনসা মঙ্গলের বেহুলা এই বাংলার নদী পথেই ভেলায় মৃত লখিন্দরের শবদেহ নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল অমরাবতির দরজায়। আধুনিক বাংলা ছোটগল্পে নদী একটা বিস্তৃত জায়গা জুড়ে রয়েছে। সাহিত্য কখনো দেশ কাল নিরপেক্ষ হতে…

সব নদী গাছ ।। হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

কবিতা সব নদী গাছ ।। হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সবুজ দুপুরের পাশ দিয়ে যত নদী বয়ে গেছে কোনো পান্থশালা থেকে তাদের ডাক আসে নি বাসস্ট্যান্ড থেকে চেনা পথের বন্ধু হাতনাড়া দিয়ে ঝড়ের পথে কথা বলে নি যত উপনদী শাখানদী সব এক একটা গাছ বাড়ির পাশ দিয়ে এলেও এখন হাতের নাগালের বাইরে শাসকের ভোঁতা বইয়ে নদীর সংজ্ঞায় আগামীর সারা মন আর্দ্র হয়ে উঠতে দেখে পাঠ থেকে নদীনাম উঠে গেছে সব ভুলে গেল প্রতি পথে জল দিয়ে মুখ দেখেছিল সে জলের ভুল নামতায় মাটি তো মরুভূমি নদীপথে ছাড়া বৃষ্টির গান কোথায়? এখনও কেউ কেউ…

নদী কীর্তিনাশা ।। রুখসানা কাজল

কীর্তিনাশা

নীহারিকা আফরোজ ইঞ্জিন বোট থেকে পদ্মার কোলে ঢলে থাকা বিকেল দেখে অবাক হয়ে যায়। জমাট হলুদ পাকা চালতারঙের আকাশ। নদী আমোদিত করে আকাশের টকটক ঘ্রাণ ভেসে আসছে। প্রিন্টেড ওড়নার নেকাব খুলে মনে মনে ভাবে নীহারিকা, ইস্যি রে! একটুখানি নুনঝাল পেলে কি যে মজা হত এখন ! চটাস করে একটুখানি টক আকাশ ভেঙ্গে চটকেমটকে চেটেখাওয়া যেত! কাল্পনিক লোভ সামলে নদী দেখে নীহারিকা। পদ্মা এখানে বেশ শান্ত। কেমন শান্তি শান্তি হয়ে বয়ে যাচ্ছে অজস্র জলরাশি। পাশ থেকে চলে যাওয়া ইঞ্জিন বোটের ছুটেআসা ঢেউ ছাড়া পদ্মার কোনো অস্বাভাবিক নড়চড় নেই। ভাঁজে ভাঁজে একই…

মহানন্দার ডাকে ।। হামিদ কায়সার

মহানন্দা

গায়ের মধ্যে সইসষার তেল মাখতে দেখেই বুকের ভেতরটা দাড়াস করে কেঁপে উঠল আকলিমার। শোয়া থেকে লাফিয়ে উঠে ও ফয়জুরের সামনে দাঁড়াল, ‘তোমা যান কই?’ দুই ঠ্যাঙের আঙুলের গলিঘুপ্চি দিয়ে তেল পাচার করে, ফয়জুরের হাত ডান পা ডলতে ডলতে উপরের দিকে উঠে আসছিল। পাছার আগে পিছে মাখা শেষ করে ওর তৈলাক্ত হাত আবার নেমে যাচ্ছিল বাম নিতম্ব হয়ে নিচের দিকে। ওর চোখের সামনেই পায়ের পর্ব শেষ করে এবার হাতের তালুয় তেল মেখে বুকে-পিঠে তেলের ছোপ মারতে লাগল ফয়জুর। আকলিমাকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকতে দেখে তাড়া দিয়ে উঠল, ‘কী দেহো?…

নদীস্নানের পর কিছু একলা মুহূর্ত ।। হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

নদীস্নানের

মুক্তগদ্য >> বৃষ্টিদিনে আমার একটা নদীর কথা মনে পড়ে। আমার নদী। আমার বাড়ির উঠোনের এক নদী। অনেকবার তাকে নাম দিতে গেছি। সে মুখ নামিয়ে নিয়েছে। ঠিক যেন মনে হবে নাম বুঝি মুখে পরিয়ে দেওয়া হয়। মুখ নামিয়ে নেওয়ার মানে কি?  আমি আর নদী কি এক স্কুলে পড়তাম? সকলের চোখের আড়ালে গিয়ে আমি তো তাকে আমার প্রিয় কোনো নাম দিতে চাই নি। নাম প্রিয় হয় বুঝি? নাকি মানুষটা প্রিয় হয় আর নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে তার সেই মুখটা ভেসে ওঠে। যখন বলি নামটা প্রিয় ততক্ষণে চোখের সামনে ভেসে ওঠা মুখটায় অনেকবার…

মরা নদীর গল্প ।। অনিন্দ্য আাসিফ

আাসিফ

সাপে তার ভয় ছিল না কখনও। এখনও নাই। লেজ ধরে মাথার উপর চড়কির মতো ঘুরিয়ে প্রথমে হঠাৎ শূন্যে ছুঁড়ে মারা, তারপর অদৃশ্য করে দেওয়া ছিল তার বাম হাতের খেলা। সামুদ্রিক জেলেদের মতো। জালে-পড়া বিষাক্ত সাপ খেলাচ্ছলে ছুঁড়ে ফেলে তারা। কখনও কখনও জানেই না, কী ভয়ানক খেলা অনায়াসে খেলে ফেলল। কিন্তু এটা সাপ না। শুকনো কচুরিপানায় যে শব্দ, সেটা ইঁদুর হতে পারে। উৎকট একটা গন্ধে এবার মনে হয়, এটা আসলে একটা চিকা। বয়স তার দৃষ্টি আর শ্রবণশক্তির কিছুটা হরণ করেছে, কিন্তু অনুপাতে কমই। তার সামনে – অদূরে কাঁচা কচুরিপানা আর নদীর…

শেষ পর্যন্ত আত্রেয়ী আর তিস্তার দেখা হয় নি, কথাও না

আত্রেয়ী

এই লেখা আসলে শ্রদ্ধেয় কথাশিল্পী দেবেশ রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন।তাঁর সাথে আমার কোনদিন দেখাও হই নি, কথাও না। তবু আনত শ্রদ্ধা জানাই তাঁকে, নদীকে যিনি বুকে ধারণ করেছিলেন। ছোটবেলা থেকে সম্ভবত ১৯৬৮ সালে তিস্তা নদীর ভয়ংকর বন্যার কথা জেনে আসলেও তার সাথে আমার প্রথম দেখা হয় অনেক পরে।। নব্বই- এর দশকের শেষের দিকে। নদী যে তীব্র অভিঘাত তৈরি করে মনের ভিতর তখন সেটা করেনি। সেটা ছিল শুধু তাকানো। এখন বুঝি সেটা দেখা ছিল না। দেখার দৃষ্টি তো নয়ই। আর তিনি অর্থাৎ দেবেশ রায় তিস্তাকে গভীর ভাবে দেখেছেন না, তিনি শুধু…

তিনি ছিলেন নদীর সন্তান 

সন্তান 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আজ তাঁর জন্মদিন। আজ আরও একবার অনুভব করলাম প্রবল ভাবে যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন আক্ষরিক অর্থেই নদীর সন্তান। তাই লেখার তাগিদ অনুভব করলাম।যদিও এটা খন্ডাংশ বলাই শ্রেয়। নদীর সন্তান না হলে কেউ এভাবে নদীকে তাঁর চিন্তা- চেতনা-ভাবনা- লেখায় জড়িয়ে নিতে পারেন?!  অথচ কি আশ্চর্য! তাঁর জীবনের প্রথম ভাগে নদীর সাথে তার সংযোগ আমরা সেই অর্থে পাইনা। নদী প্রবাহিত হয় সর্পিল গতিতে, আঁকাবাঁকা পথে। আমাদের জীবনের পথও কি তেমন নয়? বিচিত্র সব ইতিহাস যেন লুকিয়ে আছে নদীর সব বাঁকে বাঁকে। একটু যদি দৃষ্টি প্রসারিত করি তাহলে দেখবো যে দুই…

বরাকের স্মৃতির ঊর্মি : মো. আজাদ বারী শিপু 

বরাকের স্মৃতির ঊর্মি ।। মো. আজাদ বারী শিপু ।। তব যৌবনের সেই ঊর্মি জাগায় স্মৃতি হৃদয়ে সতত তব ভ্রমি। তব জলধারা পাহার হতে করতো আগমন, তব শীতল জলে কিশোরমনে পেতাম দরশন। আজ তুমি মৃত্যু মুখে।। হে স্নেহময়ী বরাক! তব উপর শোষণে মুই নির্বাক ভূ’তে আমি যে দুর্বল একজন যদি সাথে থাকিতো কতজন, বাঁচাতাম তোমায়। ওরা আপনা স্বার্থপর খাবে গাছ, ডাল, পল্লব রাখবে না তো জর, চলছে তব উপর জুলুম অত্যাচার কতক ভ্রান্তি, কবিতা লিখে দিতে পারবো কি শান্তি? শান্তি নাইবা পাও, লিখবো কবিতা তব অধিকার মূলে, ভাসিয়ে দিবো কচি হস্তে…