প্রিয় ক্যাম্পাস তোমার মাগুরমারি নদীকে ।। তুহিন শুভ্র মন্ডল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
প্রিয় ক্যাম্পাস তোমার মাগুরমারি নদীকে আমি ফিরিয়ে আনতে চাই। এই টুকু লেখার পর অনেকেই বুঝতে পারছেন যে আমি কোন ক্যাম্পাস আর কোন মাগুরমারির কথা বলছি। আবার অনেকেই বুঝতে পারছেন না হয়তো যে এ কোন ক্যাম্পাস? তাদের বলি আমার বুকের ভিতর সবুজ রঙা মন কেমন পাহাড়ের কুলকুল জলের ক্যাম্পাস আছে। যেখানে পাখির শৈশব মনে করিয়ে দেওয়া ডাক আছে, উথাল-পাথাল বিকেল আছে। বন্ধুতার খোলা চিঠি আছে। নস্টালজিয়ার বাতাস আছে। আর আছে ভালোবাসার গল্পগাছা। এমন একটা স্বপ্নমাখা ক্যাম্পাসের নাম উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। মাগুরমারি নদী তার দোসর।মাগুরমারি? স্থানীয়রা বলেন একসময় নদীতে প্রচুর মাগুর মাছ পাওয়া যেত। মাগুর মাছ মারতো এখানে। তা থেকেই মাগুরমারি। কী জানি?! যাইহোক তাকেই আমি ফিরিয়ে আনতে চাই।কেননা সে নদী আমার যৌবনের নদী
“মাগুরমারি
শান্ত বিকেলে
তোমার গায়ে আঁকা আছে
আমার হেঁটে যাওয়া
নরম রোদে খেলা করা মাছ
মাগুরমারি ব্রীজে অপেক্ষা করা
ছোট্ট পাখি
এখন আমার ভিতর খেলা করে
আমার যৌবনের জল ধারায়
তোমাকে ফিরিয়ে আনবো
মাগুরমারি…… ”।

কেন এই ফিরিয়ে আনার আহ্বান?
আজ থেকে তেইশ বছর আগে থেকে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাণধারাকে কাছ থেকে দেখা। চোখে চোখ রেখে দেখা। এখনকার সঙ্কুচিত রূপ না, এত ক্ষীণতোয়া নয়। এত শান্ত নয়। একটা প্রাণপ্রাচুর্যতা ছিল। জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল ছিল। কিন্তু এখন?

প্রিয় ক্যাম্পাস তোমার মাগুরমারি নদীকে আমি ফিরিয়ে আনতে চাই
“… মাগুর মারি
মাগুর মারি
তোমার বুকে জল নাই…”

তোমার পুরোনো খাত পরিত্যক্ত। সেটা এখন জল শুকিয়ে হেজে মজে গিয়েছে। কত জলজ প্রাণ যে তার ঠিকানা হারিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। নদীর জলে এখন নাগরিক আবর্জনার পাহাড়প্রমাণ চিহ্ন। এমন টা কি হওয়ার কথা ছিল?
না। অথচ হল। এবং আমাদের চোখের সামনেই হল। দিনের আলোয় হল। রাতের অন্ধকারে হল। আমরা দেখেছি এসব। কিন্তু মাগুরমারির জল নিয়ে কাব্য করেছি কিন্তু টা কোনো ঢেউ তোলেনি। তাই হারিয়ে যাচ্ছো তুমি। তুমি কি হারিয়েই যাবে?

এসো আর একবার :

“….. এসো আর একবার
প্রিয় ক্যাম্পাস
তোমার কাছে যাই
ফিরি তোমার নদীর কাছে
যে নদী আমারও
আরও অসংখ্য আমার….”
মাগুরমারি নদী : ছবি- তুহিন শুভ্র মন্ডল

এক দল ভাবছে তারা নদীর কাছে আসবে আবার। মাগুরমারি নদীকে একেবারে কাছে থেকে দেখবে। কবিতা-গানের আসর হবে প্রিয় নদীকে নিয়ে। নদীর পাড় ধরে হাঁটবে। নদীকে কাছ থেকে চিনবে। আর নদীকে ভালো রাখার কথা বলবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। প্রশাসনকে। তারাই এই কাজ করতে পারে। তবে সাথে থাকবে আমার মতোই অনেক আমি। যারা ভালোবাসার ক্যাম্পাসের দোসর মাগুরমারি নদীকে ফিরিয়ে দিতে চায় তার যৌবনে।

আরও পড়ুন….
‘কাঁদো নদী কাঁদো’: সময়ের আয়না- রুখসানা কাজল
মীজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকা : নদী সংখ্যা- মনি হায়দার
নদীর কথা ‘নদীয়ার নদী’-র মতো – সুপ্রতিম কর্মকার

সংশ্লিষ্ট বিষয়